"Figure to ground" কি ও ফটোগ্রাফির কম্পোজিশনে এর ব্যবহার
Henri Cartier Bresson/Magnum Photos/Spain, Valencia, 1933
ফিগার টু গ্রাউন্ড ফটোগ্রাফির কম্পোজিশনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ“ বিষয়। ছবিতে সাবজেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে কন্ট্রাস্ট যত বেশী হবে ততই ছবিটা স্ট্রং হবে। একটা উদাহরন দিলে বিষয়টা বোঝা একটু সহজ হবে।
প্রথম ছবিতে লক্ষ্য করুন সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো বিন্দুটিকে কত সহজেই দেখা যাচ্ছে
দ্বিতীয় ছবিতে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা বিন্দুটিকে কত সহজেই দেখা যাচ্ছে
সুতরাং আপনি যদি উপরের দুটি ছবিতে দুটি বিন্দুর দিকে খেয়াল করেন দেখবেন কত সহজেই সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে কালো বিন্দু ও কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা বিন্দু দেখা যাচ্ছে। এখানে স্ট্রং ফিগার টু গ্রাউন্ড নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। এখানে সহজেই ফিগার (figure) দেখা যচ্ছে বিপরীত ground (ব্যাকগ্রাউন্ড) এ।
যাই হোক এভাবে “ফিগার টু গ্রাউন্ড” মনে রাখা একটু কষ্টকর মনে হলেও Contrast দিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। অল্প কথায় ফিগার টু গ্রাউন্ড শতভাগ বুঝানো সম্ভব নয় তাই স্ট্রিট ফটোগ্রাফিতে এর প্রয়োগ দেখিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করা যাক সাথে স্ট্রিট ফটোগ্রাফিতে এর প্রয়োজনীয়তা কি তাও বুঝা যাবে।
এটি Henri Cartier Bresson এর এমন একটি ছবি যা দেখার পর যে কোন আলোকচিত্রপ্রেমী মানুষের মনকে আন্দোলিত করে ও ভাবতে বাধ্য করে। এটিকে একটি পরাবাস্তববাদী (Surrealistic) ছবিও বলা যায়। এই ছবিকে পরাবাস্তববাদী ছবি বলার কারণ হলো এটি দেখার পর সহজে বুঝা যায় না যে ছবিতে কি ঘটছে। ছবিটা যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে ছবিতে একটি সাদা জামা পরা একটি ছেলে বাম হতে দিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা রঙের রুক্ষ দেয়াল স্পর্শ করে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে।
ছবিটিকে যদি বিস্তারিত বর্ণনা করি তাহলে দেখা যাবে একটি বাচ্চা কিছুক্ষণ আগে গুলি খেয়েছে এবং তার পিছনে রক্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ছবিটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছবি। এটি দেখার পর একজন দর্শককে চিন্তায় ফেলে দেয় যে কি ঘটতে যাচ্ছে। এটি “ফিগার টু গ্রাউন্ড” এর প্রেক্ষিতে দুর্দ।ান্ত একটি শট। সাদা জামা পরা ছেলেটি কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে আছে। সে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে বিছিন্ন হয়ে আছে ফলে ছেলেটি ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে একটা দুরুত্ব তৈরী হয়েছে।
্উপরের ছবিটি বিখ্যাত আলোকচিত্রী Josef Koudelka-র তোলা। এটি আমার খুব পছন্দের একটি ছবি। এই ছবিতে একটি শান্ত ও নিস্তেজ ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে ফ্রেমের মাঝখানে একটি কালো কুকুর দেখা যাচ্ছে। ছবির মাঝখানে একটি কুকুর তার Silhoutte আকৃতি ও সূচালো কান নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। একটি খেয়াল করলে কুকুরটির সুচালো কান দুটির মত ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু ত্রিভুজ (Triangle) সৃষ্টি হয়েছে এবং এই আকৃতির বারবার পূণরাবৃত্তি হয়েছে (Reprtition) হয়েছে।
figure to ground নিয়মের প্রেক্ষিতে কেন এটি ভালো ছবি তার কারণ হচ্ছে এখানে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের (Background) বিপরীতে কালো একটি ফিগার (figure) আছে যার করণে আপনি খুব সহজেই কুকুরটাকে দেখতে পাচ্ছেন। এখন বিপরীতটা ভাবুনতো যদি এখানে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে একটা সাদা কুকুর থাকতো এবং এটি ব্যাকগ্রাউন্ডের কাছাকাছি থাকতো। এর ফলে যা হতো তা হলো কুকুরটি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে পুরোপুরি মিশে যেতো। তখন কুকুরটিকে আর ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আলাদা করা যেত না। ছবিটা গুরুত্ব হারাতো।
উপরের ছবিতে আমি ফটোশপের সাহায্যে কুকুরটিকে সাদা করে দিয়েছি। এখন অরিজিনাল ছবি ও এই ছবি পাশাপাশি রেখে দেখুন পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। সুতরাং আপনার ছবিতে যদি সাদা উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে উজ্জ্বল সাবজেক্ট থাকে তাহলে সেটি হবে Poor Figure to Ground।
চলুন এখন আরোও কিছু ছবি দেখি-
Chistopher Anderson/Magnum Photos/Venezuela, 2006
এটি Figure to Ground এর খুব ভালো উদাহরণ। ছবিতে খেয়াল করুন সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে ডার্ক সাবজেক্ট (শিংওয়ালা একটা মানুষ)। ছবিতে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে একটি Silhoutte ক্রস চিহ্ন আছে; সবকিছু মিলিয়ে ছবিটিকে খুব দৃষ্টিনন্দন লাগছে।
স্ট্রিট ফটোগ্রাফিতে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধরুন ছবিটা যদি ১ সেকেন্ড পরে ক্যাপচার করা হতো তাহলে কেমন হতো তা বোঝার জন্য ফটোশপে ছবিটিকে এডিট করে সাবজেক্টকে স্থান পরিবর্তন করা হলো।
ভাবুনতো যদি Anderson ছবিটি ১ সেকেন্ড পরে নিতেন, তাহলে লোকটি আরেকটু বামে সরে যেতেন। এখন কিভাবে আপনি সাবজেক্টকে কালো ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আলাদা করবেন?। শুধু তাই নয় আপনি খেয়াল করে দেখেন মানুষটার বামপাশের শিংটা ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিশে গেছে সুতরাং এটি Poor Figure to Ground শট কারণ এখানে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে কোন স্পষ্ট আউটলাইন নাই এবং মানুষটার শিং কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিশে গেছে।
ধরুন এই শট টা যদি Anderson কিছুক্ষণ আগে নিতেন তাহলে ক্রস চিহ্নটি আরো ডানে থাকতো (বামে নয়)
:
তাহলে ক্রস চিহ্নটি সাদা অংশে না পড়ে কালো অংশে পড়তো। এর ফলে Silhoutte পরিপূর্ণ হতো না। তাহলে আপনি সম্পূর্ণ Silhoutte দেখতে পেতেন না।
(এটি এডিটেড ছবি শুধুমাত্র Anderson এর শট যদি একটু আগে বা পরের সময়ে নিতেন তাহলে কি হতো বুঝার জন্য করা হয়েছে)
উপরের ছবিটিও “ফিগার টু গ্রাউন্ড” এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটি Nikos Economopoulos এর তোলা ছবি। একটু ভেবে দেখুন কেমন হতো যদি মেয়েটি আরেকটু ডানে দাঁড়াতো-
যদি মেয়েটি আরেকটু ডানে দাঁড়াতো তাহলে মেয়েটির জামাটি ঘরের গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ড এর সাথে মিশে যেত এবং মেয়েটিকে দেখতে কষ্ট হতো ও ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আলাদা করাও কষ্টকর হতো ফলে এটি একটি Poor Figure to Ground শট হতো।
এক্ষেত্রে মেয়েটি সাদা Silhoutte এর বিপরীতে কালো আউটলাইন থাকলে যথার্থ ছবি হবে-
অবশ্য প্রত্যেক তত্ব এবং ধারণা ব্যবহারিক রূপ লাভ করে শুধুমাত্র এটি কিভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তার উপর। নিম্নে দেখানোর চেষ্টা করেছি কি কি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে স্ট্রিট ফটোগ্রাফির কম্পোজিশনে “ফিগার টু গ্রাউন্ড” তৈরী করা যায়।
১. সাবজেক্ট দেখার আগে ব্যাকগ্রাউন্ড দেখুন:
আমরা যখন স্ট্রিটে শ্যুট করি- আমরা ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট খুঁজি এবং যখন পেয়ে যাই সাথে সাথে ছবি তুলে ফেলি মনে করি ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক আছে। এ ধরনের আচরনের সমস্যা হচ্ছে পরে ছবিতে দেখা যায় ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই বাজে এবং এই ব্যাকগ্রাউন্ড সাবজেক্টের সাথে সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ড এর সন্ধান করা এবং উজ্জ্বল রঙের পোশাকের কোন ব্যক্তির ফ্রেমে ঢুকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
২. ফ্ল্যাশ এর ব্যবহার:
Eric Kim, Tokyo, 2011
ফ্ল্যাশের ব্যবহার স্ট্রীটে যথার্থ Figure to Ground তৈরী করার খুবই কার্যকরী উপায়। উদাহরণসরূপ, উপরের ছবিটি হচ্ছে ডাউনটাউনের এক মহিলার নখের ছবি। ছবি তোলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড কুচকুচে কালো এবং হাতকে উজ্জ্বল করার জন্য ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি নিজেও Fast shutter sync speed ব্যবহার করে কালো ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরী করতে পারেন।
৩. আলোর দিকে লক্ষ্য রাখা:
Eric Kim, Tokyo, 2011
যদি আপনার সাবজেক্ট সরাসরি আলোর মধ্যে থাকে (অথবা আলোকরশ্মি তৈরী করা যেতে পারে) তাহলে আপনি স্ট্রং ফিগার টু গ্রাউন্ড তৈরী করতে পারবেন।
৪. ডজ ও বার্ন (Dodge & Burn):
Eric Kim, Tokyo, 2011
dodging & burning এর দ্বারা আপনি সাবজক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মাঝে অনেক বেশী কন্ট্রাস্ট তৈরী করতে পারবেন। উদাহরণসরূপ উপরের ছবিতে burn tool ব্যবহার করা হয়েছে লোকটিকে আরো ডার্ক করার জন্য।
৫. সাবজেক্ট-র স্থান পরিবর্তন করা:
Eric Kim, Lansing, Michigan, 2013
উপরের ছবিটি Lansing Michigan এর একজন বক্সার প্রমোটার। তাকে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সামনে বসার ফলে স্ট্রং ফিগার টু গ্রাউন্ড তৈরী হয়েছে।
সুতরাং আপনি যখন ছবি তুলবেন সাবজেক্ট যদি সাদা হয় (উজ্জ্বল পোশাক পরিহিত হয়) তাহলে অবশ্যই তাকে ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে রাখতে হবে। যদি সাবজেক্ট ডার্ক হয় (গাঢ় রঙের কোন পোশাক পরা থাকে) তাহলে তাকে উজ্জ্বল ব্যাকগ্রাউন্ডের বিপরীতে রাখতে হবে।

















মন্তব্যসমূহ